Header Ads Widget

Responsive Advertisement

পিএসসিও সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের সুপারিশ করেছিল

বাংলাদেশ

পিএসসিও সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের সুপারিশ করেছিল

আদালতের রায় ও নির্দেশনা এবং শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের বিষয়ে এখন নানা আলোচনা চলছে। তবে কোটা সংস্কার, পর্যালোচনা বা কোটার প্রয়োগপদ্ধতি সহজ করার আলোচনা ও সুপারিশ বেশ পুরোনো। প্রায় দেড় দশক আগে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এ বিষয়ে কিছু সুপারিশ করেছিল। আবার ছয় বছর আগে তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি এ নিয়ে কিছু সুপারিশ করেছিল। বিভিন্ন গবেষণাও হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। সেগুলোতে নানাভাবে কোটা সংস্কার বা পর্যালোচনার কথা এসেছে। এ বিষয়ে তিন পর্বে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে প্রথম আলো। এর প্রথম পর্বটি প্রকাশিত হলো।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটাপদ্ধতি সংস্কার নিয়ে আন্দোলন ও নানা ধরনের আলোচনা চলছে। তবে এখন থেকে প্রায় দেড় দশক আগে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কোটা সংস্কার বা কোটা প্রয়োগের পদ্ধতি সহজ করার সুপারিশ করেছিল। যদিও ২০১৮ সালে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের একপর্যায়ে ওই বছর নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) সব কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করা হয়।

পিএসসির পুরোনো বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কোটা প্রয়োগের পদ্ধতির ওপর বিস্তারিত পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শেষে কোটা প্রয়োগের পদ্ধতি সহজ করার বিষয়ে ২০০৯ সালের মার্চ সরকারের কাছে কিছু সুপারিশ করেছিল পিএসসি। ওই সুপারিশের মধ্যে ছিল মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অগ্রাধিকার কোটাগুলো জাতীয় পর্যায়ে বণ্টন করা যেতে পারে। অর্থাৎ ওই কোটাগুলোকে পুনরায় জেলা বা বিভাগভিত্তিক ভাগ করা যাবে না বা জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাপ্য পদের সর্বোচ্চ সংখ্যা দিয়ে সীমিত করা যাবে না। এ ধরনের কোটার পদগুলো জাতীয়ভিত্তিক নিজস্ব মেধাক্রম অনুযায়ী ওই কোটায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা যেতে পারে।

পিএসসির ২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে কোটার প্রয়োগকে অত্যন্ত জটিল, দুরূহ এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার উল্লেখ করে পিএসসি বলেছিল কোটা প্রয়োগের পদ্ধতি সহজ করা একান্ত আবশ্যক। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, কোটাপদ্ধতির জটিলতার কারণে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন শতভাগ নিখুঁতভাবে সম্পাদন করা প্রায় অসম্ভব। প্রার্থীদের বিভিন্ন ক্যাডারের চাকরির পছন্দক্রম এবং কোটার সঙ্গে বিভিন্ন জেলা বা বিভাগের জন্য আরোপিত সংখ্যাগত সীমারেখা সংযুক্ত হয়ে এমন একটি বহুমাত্রিক সমীকরণ কাঠামোর সৃষ্টি করেছে, যার নির্ভুল সমাধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানবীয়ভাবে প্রায় অসম্ভব। এ জন্য পিএসসি বলেছিল, কম সময়ে ও সুচারু এবং নির্ভুলভাবে বিসিএস পরীক্ষাসহ নন-ক্যাডারে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা প্রয়োগের পদ্ধতি সহজ করা একান্ত আবশ্যক। অন্যথায় কোটা প্রয়োগসংশ্লিষ্ট জটিলতা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

পিএসসির ২০১৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনেও একই ধরনের সুপারিশ করা হয়েছিল।পিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরির ২০ শতাংশ পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হতো। বাকি ৮০ শতাংশ পদে নিয়োগ হতো কোটায়। ১৯৭৬ সালে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ৪০ শতাংশে বাড়ানো হয়। ১৯৮৫ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়ম চালু করা হয়। বাকি ৫৫ শতাংশ অগ্রাধিকার কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ যোগ করে মোট কোটা দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশ। বাছাই, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করার পর কোটা বিবেচনা করার নিয়ম। একসময় কোটার অনেক পদ শূন্য থাকত। যদিও পরে নিয়ম চালু করা হয়—কোটায় পদ পাওয়া না গেলে তা মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে।

৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে নিয়োগে কোটা বাতিল-সংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্র গত ৫ জুন অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। রায়ের মূল অংশ গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। এই রায়ের মূলকথা হলো, সব কোটা বজায় রাখতে হবে। তবে প্রয়োজনে বাড়ানো-কমানো যাবে। অবশ্য আপিল বিভাগ কোটার বিষয়ে পক্ষগুলোকে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।


চাকরি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, কোটার বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে তিনি মনে করেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পুরোপুরি বাতিল না করে সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংস্কার করা উচিত।

Post a Comment

0 Comments